তিন মন্ত্রীকে সরাতে ৬০০ কোটি টাকার চুক্তি!

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আর মাত্র আড়াই মাস বাকি। নির্বাচন যতো এগিয়ে আসছে দলীয় মনোনয়ন পেতে আওয়ামী লীগ নেতাদের দৌঁড়ঝাপ ততোই বাড়ছে। বর্তমান সংসদ সদস্যদের সরিয়ে দ্বাদশ সংসদে যেতে চান এমন নেতাও বেড়েছে অনেক। সেজন্য বেশ কিছুদিন ধরেই চলছে প্রচার-প্রচারণা। আর এই সুযোগে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার নামে মোটা অংকের টাকা হাতিয়ে নিতে সক্রিয় হয়েছে কিছু প্রতারক চক্র।

সম্প্রতি এমনই এক প্রতারক চক্রের মূল হোতাকে গ্রেপ্তার করে র‌্যাব। গ্রেপ্তার হওয়া ওই ব্যক্তির নাম আবু হানিফ তুষার ওরফে হানিফ মিয়া। তার গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায়। সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে গত ১৭ অক্টোবর রাতে র‍্যাব-১-এর একটি দল রাজধানীর বসুন্ধরা আবাসিক এলাকা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চাঞ্চল্যকর সব তথ্য।

তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সরকারের তিন জন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রীর আসনে নতুন প্রার্থী মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার জন্য ৬০০ কোটি টাকা চুক্তি করে আবু হানিফ তুষার। এর মধ্যে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের এক মন্ত্রীকে সরিয়ে সেখানকার একজন ব্যবসায়ীকে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার জন্য ১৫০ কোটি টাকার চুক্তি করা হয়।

এ ছাড়া গাজীপুরের এক সিনিয়র মন্ত্রীকে সরিয়ে সেখানকার আওয়ামী লীগের এক নেতাকে ৩০০ কোটি টাকার বিনিময়ে মনোনয়ন পাইয়ে দেওয়ার জন্য চুক্তি করে হানিফ। শুধু তাই নয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এক মন্ত্রীকে সরিয়ে হানিফ নিজেই ২৫ কোটি টাকা খরচ করে সেখানে মনোনয়নপ্রত্যাশী ছিলেন। চুক্তি ছিল ওই মন্ত্রীকে ঢাকার একটি আসনে প্রার্থী করাবেন তিনি। তবে এসব মনোনয়নপ্রত্যাশীদের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলেও কারও সঙ্গেই লেনদেনের প্রমাণ পাওয়া যায়নি। তাদের মধ্যে চুক্তি হয় মনোনয়ন পাওয়ার পর টাকা পরিশোধ করার।

শুধু সংসদ সদস্য মনোনয়নই নয়, রাষ্ট্রীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে পদায়ন বা পদোন্নতির আশ্বাস দিয়ে সরকারি বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছে বিপুল অঙ্কের অর্থ দাবি করতেন হানিফ। সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি দেওয়া, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পদ পাইয়ে দেওয়াসহ বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার বেশি অর্থ আত্মসাৎ করেছেন তিনি।

এ প্রসঙ্গে র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, আবু হানিফ অনেক মন্ত্রী, এমপির আসনে দলীয় বিতর্কিত নেতা ও ব্যবসায়ীদের টোপ দিয়ে নতুন মনোনয়ন পাওয়ার জন্য অর্থ আত্মসাৎ শুরু করে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বোন শেখ রেহানার মিথ্যা নিকটাত্মীয় পরিচয়ে এসব প্রতারণা করে আসছিল। একের পর এক প্রতারণার কারণে র‌্যাবের কাছে অভিযোগ আসে আবু হানিফ তুষারের বিরুদ্ধে। এক পর্যায়ে তার বিষয়ে গোয়েন্দা কার্যক্রম চালানো হলে ভয়ংকর ও চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে আসে। তাকে গ্রেপ্তার করার পর সব প্রতারণার বিষয়ে মুখ খোলে সে। প্রমাণপত্রও তার কাছ থেকে উদ্ধার করা হয়।