কুড়িগ্রামে নৌকার প্রচারণায় ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জয়

রৌমারী (কুড়িগ্রাম) প্রতিনিধি: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কুড়িগ্রাম-৪ (চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুর) আসনে আওয়ামী লীগ নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বিপ্লব হাসান পলাশের পক্ষে প্রচার প্রচারণায় নেমেছেন বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি আল নাহিয়ান খান জয়। বুধবার থেকে চিলমারী, রৌমারী ও রাজিবপুরের বিভিন্ন স্থানে ছাত্রলীগের সাবেক ও বর্তমান নেতা-কর্মীদের নিয়ে নৌকার প্রচারণা চালান তিনি। এসময় নৌকার পক্ষে তিনি ভোট প্রার্থনা করেন।

আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, কুড়িগ্রাম ছাত্রলীগের ত্যাগি নেতা ছিলেন বিপ্লব হাসান পলাশ। এই নির্বাচনে ক্ষমতাসীন দল ছাত্রলীগের বেশ কয়েকজন যোগ্য প্রার্থীদের সুযোগ দেয়া হয়েছে। সেই তালিকায় যুক্ত হয়েছেন বিপ্লব হাসান। দেশের উন্নয়ন অব্যাহত রাখাতে নৌকা মার্কাকে বিপুল ভোটে নির্বাচিত করতে হবে।

আল নাহিয়ান খান জয় বলেন, “আমরা যারা রাজনীতি করি, তারা আদর্শের রাজনীতি করি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়ন করতে চাই। আর বঙ্গবন্ধুর আদর্শ বাস্তবায়নে শেখ হাসিনার বিকল্প নেই। শেখ হাসিনার একমাত্র প্রতীক নৌকা। যারা অন্য কোনো প্রতীককে শেখ হাসিনার প্রতীক বলে প্রচার করছেন, তারা মিথ্যাচার করছেন। নৌকা একটি আদর্শের প্রতীক। তাই আগামী ৭ জানুয়ারি সারাদিন কুড়িগ্রাম-৪ আসনের নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে এটিকে আবারও প্রমাণ করে দিতে হবে।”

তিনি বলেন, “দেশরত্ন শেখ হাসিনা আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাস্তবমুখী ইশতেহার দিয়েছেন। এখানে কোনো ভাঁওতাবাজি নেই, প্রতারণা নেই। আওয়ামী লীগের নেতৃত্বাধীন এ সরকারের পক্ষেই ওই ইশতেহার বাস্তবায়ন সম্ভব।”

নৌকার পক্ষে ভোট চাওয়ার পাশাপাশি অন্য ভোটারদেরও ভোটকেন্দ্রে নিয়ে আসা এবং তাদের উৎসাহিত করার আহ্বান জানান ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি জয় । তিনি বলেন, আমাদের নেতা-কর্মীরা প্রত্যেকে যদি ভোটের দিন অন্ততপক্ষে ১৫ জন করে ভোটার কেন্দ্রে নিয়ে আসার শপথ নেন, তবে অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন পেতে পারি। আমাদের দরকার অংশগ্রহণমূলক ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন। সেই উদ্দেশ্যে আমাদের কাজ করতে হবে। কুড়িগ্রাম-৪ আসনে নৌকার প্রচুর ভোটার রয়েছে। সব ভোটারকে আমরা কেন্দ্রে আনতে পারলে নৌকার বিজয় কেউ ঠেকিয়ে রাখতে পারবে না।

১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনের পর ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচন পর্যন্ত টানা আসনটি জাতীয় পার্টির দখলে ছিল। নবম সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির দুর্গে হানা দেয় আওয়ামী লীগ। আওয়ামী লীগের জাকির হোসেন এই আসনে এমপি নির্বাচিত হন। কিন্তু দশম সংসদ নির্বাচনে জাকির হোসেনের জনপ্রিয়তা তলানিতে ঠেকলে মাঠপর্যায়ে অখ্যাত দলের প্রার্থী হয়েও রুহুল আমিন এমপি নির্বাচিত হন।

তবে একাদশ নির্বাচনে কৌশলী আওয়ামী লীগ আসনটিতে জোট না থেকে উন্মুক্ত রাখে। এই নির্বাচনে জাকির হোসেন নির্বাচিত হওয়ায় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর দায়িত্বে নিয়োজিত হন। কিন্তু স্থানীয় আওয়ামী লীগকে সেভাবে মূল্যায়ন না করায় দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনে সম্ভাব্য মনোনয়নপ্রত্যাশীরা প্রার্থী চূড়ান্তের আগে দলীয় মনোনয়ন বোর্ডকে চিঠি দেন। চিঠিতে তারা জাকির হোসেনকে মনোনয়ন না দিতে তার নানা অপকর্ম তুলে ধরেন। এতে তার কপাল পোড়ে। আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পান বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির তথ্য ও গবেষণা উপ-কমিটির সদস্য বিল্পব হাসান পলাশ।

নির্বাচন কার্যালয়ের তথ্যমতে, কুড়িগ্রাম-৪ আসনে মোট ভোটার ৩ লাখ ৩৭ হাজার ৭৮৮ জন। এর মধ্যে ১ লাখ ৬৮ হাজার ২১২ জন পুরুষ ও ১ লাখ ৬৯ হাজার ৫৭৬ জন নারী ভোটার। ১৫টি ইউনিয়নের ১৩০টি কেন্দ্রের ৭৯৮টি বুথে ভোটাররা তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।

এই আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ছাড়াও জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকে মনোনয়ন পেয়েছেন রৌমারী উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুর রহমান বাবলু, জাতীয় পার্টি জেপি মঞ্জু থেকে মনোনয়ন পেয়েছেন রুহুল আমিন। এ ছাড়া স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের সাবেক উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান বঙ্গবাসী, রৌমারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সহ-সভাপতি শহিদুল ইসলাম শালু নির্বাচনী মাঠে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।